নিলামে কারা কিনলেন ইভ্যালির ৭ গাড়ি ?

বাংলাদেশ শিরোনাম

গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করতে আদালত কর্তৃক গঠিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির পরিচালনা বোর্ড প্রতিষ্ঠানটির সাতটি গাড়ি নিলামে বিক্রি করেছে। নিলামে গাড়িগুলো ২ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। সাত জন ক্রেতা নিলামের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে গাড়িগুলো কিনেছেন। নিলাম শেষে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির ১৪ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাড়ির ভিক্টোরিয়া কনভেনশন সেন্টারে নিলাম শেষে এ তথ্য জানান আদলত কর্তৃক গঠিত ইভ্যালির পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

নিলামে ইভ্যালির সাত গাড়ি কিনলেন যারা

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির রেঞ্জ রোবার গাড়িটি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। নিলামে এ গাড়ির দর হাঁকিয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে গাড়িটি কিনে নেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। নিলামের শুরুতে গাড়িটির ন্যূনতম নিলাম দর এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল।

ইভ্যালির টয়োটা প্রিয়াস প্রাইভেট কারটি বিক্রি হয়েছে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। মোহাম্মদ রিপন ইসলাম নামের এক ক্রেতা এ দর দিয়ে গাড়িটি কেনেন।

ইভ্যালির টয়োটা সিএইচআর মডেলের গাড়িটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ২৩ লাখ ৮০ হাজার। প্রশান্ত ভৌমিক নামের এক ক্রেতা এ দর হাঁকিয়ে গাড়িটি কেনেন। গাড়িটির ভিত্তি মূল্য ছিল ১৮ লাখ টাকা।

টয়োটা এক্সিও মডেলের গাড়িটি বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। আবুল হাসনাত রাসেল নামে এক ক্রেতা গাড়িটি নিলামে সর্বোচ্চ এ দর হাঁকিয়ে কিনেছেন। নিলামে গাড়িটির ভিত্তি মূল্য ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

টয়োটা এক্সিও মডেলের দ্বিতীয় গাড়িটির নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১৫ লাখ টাকা। নিলামে গাড়িটির ভিত্তিমূল্য ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। গাড়িটি সর্বোচ্চ মূল্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন প্রশান্ত ভৌমিক। নিলামের মাধ্যমে দুটি গাড়ি কেনেন তিনি।

ইভ্যালির হোন্ডা ভেসেল গাড়িটির নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নিলামের একমাত্র নারী ক্রেতা কানিজ ফাতিমা ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা দর হাঁকিয়ে গাড়িটি কিনেছে। নিলামে গাড়িটির ভিত্তিমূল্য ছিল ১৬ লাখ টাকা।

নিলামে সর্বশেষ উঠে ইভ্যালির টয়োটা ব্র্যান্ডের মাইক্রোবাসটি। নিলামে মাইক্রোবাসটির সর্বোচ্চ মূল্য উঠে ২০ লাখ টাকা। এ দর হাঁকিয়ে মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন নামে এক ক্রেতা গাড়িটি কিনেছেন। নিলামে গাড়িটির ভিত্তিমূল্য ছিল ১২ লাখ টাকা।

নিলাম শেষে ইভ্যালির পরিচালনা পরিষদ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, নিলাম খুব সুন্দর হয়েছে। আমরা গাড়ির যে মূল্য পেয়েছি তাতে খুশি। আমরা নিলামে সাতটি গাড়ি মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।

নিলামের সার্বিক বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাটের জন্য নিলামে গাড়ি কেনা একাধিক মালিক কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শোরুম থেকে গাড়িগুলো কিনলে অতিরিক্ত এ ভ্যাট দিতে হতো না। নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে ভ্যাটের টাকা চলে আসত। কিন্তু এখানে নিলামের নির্ধারিত দাম পরিশোধের পরও অতিরিক্ত সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। তবে এ টাকাটা যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছে যাবে সেক্ষেত্রে তারা এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

শেয়ার করলে অনুপ্রাণিত হবো...।

Comments

comments